Social Icons

Featured Posts

Friday, May 1, 2020

চীনের ম্যাকাউ (Macau) শহর



Macau যাকে কিনা বলা হয় এশিয়ার লাসভেগাস, 1999 সাল পর্যন্ত পর্তুগালের অধীনে ছিল, পরবর্তীতে যা চায়নার অধীনে চলে আসে। চায়নার অধীনে আসলেও মেকাও এর নিজস্ব কারেন্সি আছে ,যাকে ম্যাকাও ডলার বলা হয়। ম্যাকাও তে পর্তুগিজ, চাইনিজ , ফিলিপিনো এবং তাইওয়ানেসের এক মিলন মেলা বলা হয়। ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়  250 ADC তে মাছ ধরার জেলেরা আসতো ফুজিয়ান থেকে এবং ফার্মার এসেছে  Guangdong থেকে। তখন এখানে Ou Mun কিংবা ট্র্যাডিশনাল গেট যা মুক্তা নদীর পারে ছিল এবং যা পরবর্তীতে সিল্ক রোড হয়ে এখানে  ব্যবসায়ীদের আগমন ঘটে। এখানে ১২০০ থেকে ১২৫০ সালে প্রায় ৫০০০ রিফুজি মঙ্গোলিয়ানরা বসবাস শুরু করে। ধারণা করা হয় ম্যাকাও নামটি এসেছে A Ma Gao, place of A Ma, সমুদ্র দেবতাদের কাছ থেকে। এটি ছিল চীনে সর্বশেষ ইউরোপীয় কলোনি। পর্তুগীজ ব্যবসায়ীরা ১৫৫০ সালের দিকে মাকাওয়ে প্রথম বসতি স্থাপন করে। ১৫৫৭ সালে চীনের সম্রাট মাকাওকে বাণিজ্য বন্দর হিসেবে পর্তুগালের কাছে ইজারা দেন। প্রতি বছর ৫০০ teals করে চীনকে ইজারা দেয়া হতো। ১৮৮৭ সাল পর্যন্ত মাকাও চীনা প্রশাসনের অধীনে পর্তুগাল কর্তৃক শাসিত হয়েছিল। ১৮৮৭ সালে মাকাও পর্তুগীজ কলোনিতে রূপান্তরিত হয়। পর্তুগাল থেকে ওয়াইনারি, বিভিন্ন ধরনের পণ্য সামগ্রী এনে, এশিয়ার বিভিন্ন দেশে রপ্তানী করত এবং এশিয়া থেকে চা, মসলা জাতীয় দ্রব্য আমদানি করত । এখান থেকে পানি পথে গোয়া পর্যন্ত যাতায়াত করা হতো। ১৮৫০ সালে সর্বপ্রথম পর্তুগিজরা ম্যাকাওতে জুয়ার আড্ডা বসায় এবং পরবর্তী বছর থেকেই আড়াইশো টি ঘরে জুয়ার আড্ডা বসে, যাকে এশিয়ার জুয়ার আড্ডা খানা বলা হয়। শুধুমাত্র চীনের অধিবাসীরা এই শহরে জুয়া খেলার জন্য আসে, তারপর থেকে এশিয়ার বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যবসায়ীরা আসতে শুরু করে, এবং পরবর্তীতে এখানে শুরু হয় tourism of gambling। এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে এই বন্দরনগরী যোগসুত্র তৈরি করে, যেখানে চীন ,ইন্ডিয়া, জাপান ও ইউরোপ থেকে পণ্য সামগ্রী এখানে এনে বাণিজ্য করা হয়। তবে এখানে সবচেয়ে প্রথম মডার্ন ক্যাসিনো হচ্ছে লিসবোয়া যা ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে রুমের সংখ্যা ২৩৬২ টি।

১৭ই জুলাই ২০১০ সালে আমার ম্যাকাও যাওয়া হয়। এয়ার এশিয়া প্লেনে করে কুয়ালালামপুর থেকে ফ্লাই করি মাত্র 28 আমেরিকান ডলারে। রিটার্ন টিকেট ছিল সেনজেন শহর থেকে ব্যাংককে 30 শে জুলাই। অনেক কষ্ট করে ম্যাকাও এর ভিসা পেয়েছি কুয়ালালামপুর ম্যাকাও ভিসা কনস্যুলেট থেকে । মালয়েশিয়ার রেসিডেন্ট না থাকায় এম্বাসিকে পারডে ১০০ ডলার খরচ দেখিয়ে ১২০০ ডলারে ১২ দিনের ভিসা পাই, এই ভিসা নিতে ১৬ দিন সময় লেগেছিলো।

আমার ফ্লাইট ছিল খুব ভোর বেলায় রাত ১.৪৫ এ, এবং যখন ওখানে পৌঁছাই ভোর হয়নি। প্লেন থেকে রাতের জমকালো লাল-নীল আলোয় ম্যাকাও শহরটিকে আধুনিক এক স্বপ্নপুরী লাগছিল। জীবনে প্রথম এই এত আলোর লাল- নীল আধুনিক স্থাপত্যের নিদর্শন দেখা। সত্যিই অপরূপ দৃশ্য। ওই রাতেই পাশের সদ্য পরিচিত হওয়া দুজন ইন্দোনেশিয়ানদের ট্যাক্সিতে শহরে Fortuna Casino এসে পৌঁছায়। আমার আগে থেকে কোন হোটেল বুকিং ছিল না, তো আমি সেই ভোর বেলায় কোথাও চেক-ইন করতে পারলাম না। এখন আমি আমার ছোট ব্যাগ নিয়ে ঘুরতে লাগলাম। প্রায় প্রত্যেক ক্যাসিনোতে তখনো অনেক লোকের খেলছিল লাল চোখ নিয়ে। বিভিন্ন জায়গা ঘুরতে ঘুরতে চলে আসলাম Casino Macau Palace, সত্যি সেটি দেখতে একটি রাজপ্রসাদের মতো, যদি না কাউকে না বলা হয়, তাহলে ক্যাসিনোটিকে রাজপ্রাসাদ ভেবে ভুল করতেও পারে। ততক্ষণে সাতটা সাড়ে সাতটা বেজে গিয়েছে, হোটেলের ট্যুরিস্ট কাউন্টার থেকে জেনে নিলাম  শহরের কোথাও হোস্টেল আছে কিনা, তারপর তারা আমাকে একটি অল টাউনের এড্রেস দেয়, যেখানে খুব সস্তায় হোটেল পাওয়া যাবে। তারপর হাঁটতে হাঁটতে আর বড় বড় বিল্ডিং দেখতে দেখতে The Sands Macau সমুদ্রের পাশে অবস্থিত, এখান থেকে সমুদ্রস্নানের অনেক ব্যবস্থা রয়েছে ওখানে চলে আসলাম।

তারপর কিছুক্ষন সমুদ্রের পারে বসে সাড়ে নটার দিকে ওল্ড টাউন এর দিকে রওনা হলাম বাসে। ততক্ষণে আমার বেশ খিদে পেয়ে গিয়েছিল। ওখানকার চাইনিজ রেস্টুরেন্টে সকালের নাস্তাটা সেরে ফেললাম চাইনিজ ডাম্পলিং স্যুপ দিয়ে। তারপর সাড়ে এগারোটা নাগাদ হোটেলটি খুঁজে পেলাম, তখনো চেক আউট হয়নি। ছোট্ট গেস্ট হাউজের ছোট্ট চেয়ারে বসে থাকলাম বারোটা নাগাদ চেক আউট হলেই রুম দিবে, সারা শহর ঘুরে ঘুরে এই জায়গাটায় ১৫০ ম্যাকাও ডলারে রুম পেলাম, কিন্তু শাওয়ার- টয়লেট শেয়ার। তবে আমি মহাখুশি এর থেকে আর কম দামে কিছু পাওয়া যাবে না। রুমে ঢুকে এমন এক ঘুম দিলাম,পাঁচটার সময় উঠলাম। তারপর রেডি হয়ে শহর দেখতে নেমে গেলাম। সুপার মার্কেট থেকে কিছু খাবার খেয়ে হাঁটতে হাঁটতে দেখলাম এখানে অধিকাংশ মানুষজন চাইনিজ, পর্তুগিজ, ইউরোপিয়ান, কিন্তু যারা এখানে চাকরি করে তারা অধিকাংশই ফিলিপিনো। এরই মাঝে হাঁটতে হাঁটতে চলে গেলাম Golden Dragon Casino তে, ড্রাগন অফ fortune, যেখানে চার মিনিটের একটি show দেখানো হয়, যা কিনা সিলিংয়ে বিভিন্ন আকার আকৃতি ধারণ করে, যা সত্যিই অপরূপ। একটা জিনিস খেয়াল করলাম: প্রতিটি হোটেলের এন্টারটেইনমেন্ট, নকশা, কালার সবকিছুতেই নিজস্বতা ও ভিন্নতা রয়েছে। প্রতিটি অফার করেছে একটি জাতি, একটি দেশের ঐতিহ্য, কৃষ্টি ও ইতিহাস। যেমন: Greek Mythology Casino, গ্রিক সভ্যতা কে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। MGM Macau হোটেলে লাইট সাউন্ড শো দেখানো হয়, সাতটা থেকে রাত বারোটা পর্যন্ত প্রতি ঘণ্টায় একবার করে। তাই দেখতে ছুটে গেলাম। তবে Wynn Macau তে দেখানো হয় ট্রি অফ প্রসপারিটি, যা ২০০০ ডালপালা এবং ৯৮০০০ পাতা নিয়ে ঠিক মাটির নিচ থেকে উঠে আসে একটি গাছ, ৭ মিনিটের শো, আমার কাছে সবচেয়ে ভালো লেগেছে, যা আমি আর পৃথিবীর কোথাও দেখিনি। মাত্র ৩৩ কিলোমিটারের এশিয়ার 'লাস ভেগাস' বা জুয়ার  শহরটিতে রয়েছে ৪২ টি হোটেল, তার মধ্যে ৩৮ টি হোটেলে রয়েছে ক্যাসিনো। অন্যদিকে, The Venetian Macau এটা রোম শহরের একটি প্রতীক। Cotai Strip Babylon Casino তে ব্যাবিলনের সেই আদি সভ্যতা কে সাজানো হয়েছে ইজিপশিয়ান সভ্যতা সহ। Casino Crystal Palace, Inn Emperor Palace এসব দেখতে দেখতে অনেক রাতে হোটেলে ফিরলাম।

পরের দিন সকাল ৯ টার দিকে নাস্তা করে আসলাম নতুন আধুনিক সভ্যতার খোঁজে Diamond Casino at Holiday, Casino Galaxy, Rio Casino, এটা ব্রাজিলের কালচার কে ধারণ করা হয়েছে। এখানে একটি থেকে আরেকটি হোটেলে বিশাল বড় আকৃতির যেতে অনেক সময় লাগে। Galaxy Star world, গ্যালাক্সির স্টাইলে সাজানো, কখনো বা সুপারম্যান, Galaxy Waldo Hotel  কোন কিছুর অভাব নেই। পর্যটকদের বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান কিংবা নারীদের জন্য চোখ ধাঁধানো সুন্দর সুন্দর শপিং মলে আটকে রাখার যথেষ্ট চেষ্টা রয়েছে। Casino Pharaoh’s Palace, Casino Ponte 16, Casino Marina at Taipei, Crown Casino Taipa MJC, Casino Taipei, City of Dreams তে দেখানো হয়, ড্রাগন স্টেনজার যা আইকনিক মাল্টিমিডিয়া অ্যাট্রাকশন এক্সপ্লোর করে ভার্চুয়াল এবং সাউন্ড, অনেক সিনারি। Galaxy Cotai Mega, Resort Galaxy Grand Waldo, Casino Oceanus আর এসব ক্যাসিনোর মধ্যে শুধুমাত্র চাইনিজদের আনাগোনা, মাঝে মাঝে কিছু ইউরোপিয়ানদের চোখে পড়ে।যতটুক দেখেছি বড় বড় খেলার দানের সময় চাইনিজদের অবস্থান বেশি। এবং প্রতিটি ক্যাসিনোতে রয়েছে হোটেল, শপিং মল, রেস্টুরেন্ট ও নানা ধরনের শো যা কিনা সম্পূর্ণ ফ্রিতে দেখানো হয়, কখনো বা ইটালি শহর কিংবা প্যারিস, কিংবা আবার পর্তুগালের লিসবোয়া সাজে রয়েছে প্রতিটি ক্যাসিনো, সন্ধ্যায় অপরূপ রূপে সেজে ওঠে এই ম্যাকাও সিটি। একটি বন্দর নগরী কে কিভাবে আদি ঐতিহ্য, আধুনিকতার সমন্বয় গড়ে ওঠা একটি শহর। যা কিছুটা হলেও লাসভেগাস থেকে প্রাণ আছে। এইভাবে আমার দ্বিতীয় দিনটিও কেটে যায়।

ম্যাকাও টাওয়ার থেকে শহরটির সৌন্দর্য টি খুব সুন্দর ভাবে উপভোগ করা যায়। একদিকে যেমন জুয়ার আসর রয়েছে তেমনি, রয়েছে সেন্ট অগাস্টিনের গির্জা , হলি হাউস অফ মেরি, Ruins of St. Paul's যা 1650 থেকে 1660 নির্মাণ করা এটাকে মেইন আকর্ষন বলা যেতে পারে।তৃতীয় দিনের আকর্ষণ ছিল সকাল থেকে পর্তুগীজদের ইতিহাস নিয়ে, তার দরুন যাওয়া হয় Mount Fortress & Museum of Macau দেখতে। ওখান থেকে আসার সময় অনেক লোকের ভিড় দেখে একটি পর্তুগিজ রেস্টুরেন্টে খাওয়া হয়। অসাধারণ সেই খাবার। senado square কে বলা হয় মেইন স্কয়ার যা শহরের মধ্যে খানে অবস্থিত, অপরূপ ভাবে সাজানো সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো মোজাইক করা রয়েছে ,আর তার মধ্যেখানে ওয়াটারফল আরো মন মুগ্ধ করে তুলেছে। সেখানে বসে অনেকটাই সময় পার করলাম, শুধুমাত্র এই জায়গাটিতে আসলেই ট্যুরিস্টদের দেখা যায় বিভিন্ন বর্ণের ইউরোপিয়ান থেকে শুরু করে এশিয়ান পর্যন্ত। এর পাশেই পর্তুগিজ খাবারের কিছু রেস্টুরেন্ট আছে যা সেই ১৭ শতাব্দী থেকে আজও চলে আসছে। আজকের চিন্তা করেছে কোন প্রাণহীন লাল বিল্ডিং দেখব না, তখন পরিচয় হয় কমল নামে এক বন্ধুর সাথে। সে এসেছে তার গ্রূপ এর সাথে পুনা থেকে। তার আমন্ত্রণে রাতের ডিনার ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্ট যাওয়া হয়, কিছুটা আড়ষ্টতা ছিল ১২-১৩ জন ছেলের মধ্যখানে একমাত্র মেয়ে আমি। তারা সবাই আমাকে পুনা ও বম্বেতে আমন্ত্রণ জানায়। আমার ডিনারের বিল পেমেন্ট করতে চাইলে তারা আমাকে বাধা দেয়, ইন্ডিয়ান বাংলাদেশী কিংবা পাকিস্তানি, মুসলিম কালচারে মেয়েদেরকে অবলা ভাবা হয় বলে তাদের কাছ থেকে কখনোই দিলানা, কিন্তু ইউরোপিয়ান, ওয়েস্টার্ন কালচারে যে যার বিল পেমেন্ট করে। আমি একটু আরষ্টতা বোধ করায় তাড়াতাড়ি হোটেলে চলে আসি সেদিন রাতে। এখানে একসাথে রয়েছে চাইনিজ কিংবা ইতালিয়ান খাবারের রেস্টুরেন্ট, আর বাংলাদেশীদের জন্য তো ইন্ডিয়ান খাবারের রেস্টুরেন্ট রয়েছে। তবে এখানে খাবার এবং থাকা অনেক এক্সপেন্সিভ তুলনামূলকভাবে লাসভেগাসের থেকে। সাধারণত এখানে 150 আমেরিকান ডলারের নিচে কোন হোটেল পাওয়া যায় না, আর খাবার খেতে হলে প্রত্যেকবারই গুনতে হয় 20 থেকে 50 ডলার। ইন্টারটেনমেন্ট অনেক অংশে ফ্রি আছে, তার সঙ্গে রয়েছে বড় থিয়েটার যেখানে দেখানো হয় চাইনিজ অপেরা কিংবা পর্তুগিজ অপেরা থেকে শুরু করে ইটালিয়ান অপেরা সারা বছর ধরেই। আমার এই ম্যাকাও শহরটিতে যাওয়া হয়েছিল ২০১০ সালের ১৭ই জুলাই, মাত্র তিন দিনের জন্য, কিন্তু পরে আমি এখানে ৪ দিন থেকে যাই, জুয়ার ভাগ্য ভালো থাকায়। তবে এখনো আমার স্মৃতিতে গেঁথে আছে সেই ম্যাকাওয়ের আধুনিক শহরটি।

করোনা থেকে বাঁচাবে ড. বিজন শীলের এই সহজ রেসিপি


বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী ড. বিজন শীলের মতে, করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো এই ভাইরাসকে অঙ্কুরে বিনাশ করা। কেউ যাতে করোনায় ভয়াবহভাবে আক্রান্ত না হন, সহজে সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন, তার জন্য ড. বিজন শীল যে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন তা জীবন বাঁচাতে এ মুহূর্তে সবার পালন করা উচিত।
ড. বিজন শীল জানান, যেকোনও ধরনের গলা খুশ খুশ বা কাশি দেখা দিলেই আর অপেক্ষা করা উচিত হবে না। ওটা করোনাভাইরাস নাকি করোনা নয়, এ নিয়ে চিন্তা করার কোনও দরকার নেই। বরং ওই মুহূর্ত থেকে যে কাজটি করতে হবে, তা হলো আদা (জিঞ্জার) ও লবঙ্গ (ক্লোব) একসঙ্গে পিষে সেটাকে গরম পানিতে সিদ্ধ করে তার সঙ্গে কিছুটা চা দিয়ে ওটা এক কাপ মতো নিয়ে গারগল করে খেতে হবে। দিনে অন্তত তিন-চারবার এক কাপ করে এটা খেতে হবে। এর ফলে গলার ভেতরের কোষগুলোতে রক্ত সঞ্চালন বাড়বে। এতে কোষগুলো শক্তিশালী হবে। কোষগুলোর ইমিউনিটি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়বে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে কোভিড-১৯ ভাইরাস যদি আক্রমণ করে, তাকে প্রতিরোধ করার সামর্থ লাভ করবে কোষগুলো।
যাদের গলা খুশ খুশ করে না বা কোনও কাশি দেখা দেয়নি, তারাও এটা নিয়মিত দিনে দুইবার অন্তত দু’কাপ খাবেন। তাতে তাদেরও ইমিউনিটি বাড়বে।
এর পাশাপাশি যাদের জোগাড় করা সম্ভব, বিশেষ করে যারা গ্রামে আছেন, তারা এখন নিমপাতা পাবেন। ড. বিজন শীলের পরামর্শ হলো, ওই নিমপাতা একটু পানি দিয়ে পিষতে হবে। পেষার ফলে যে সবুজ রঙের রসটি বের হবে সেটার সঙ্গে গরম পানি মিশিয়ে তা গারগল করে খেতে হবে। এর ফলে গলার কোষগুলোয় রক্ত সঞ্চালন বাড়বে, ইমিউনিটি বাড়বে। যা অনেক বেশি সমর্থ হবে করোনা বা কোভিড-১৯ ভাইরাসকে পরাজিত করতে।
ইতোমধ্যে আমরা বিভিন্ন ডাক্তারের আলোচনার মাধ্যমে জেনেছি করোনা আমাদের গলা থেকে ফুসফুসে গিয়ে আক্রমণ করে। এক পর্যায়ে ফুসফুসে পানি জমে যায়। তখন রোগী মৃত্যুর মুখে চলে যায়। ড. বিজন শীল বলেন, করোনার এই যে তিনটি পর্যায় অর্থাৎ প্রথমে গলায় আক্রমণ করা। অর্থাৎ গলায় খুশ খুশ কাশি হবে। এর পরে এটা আমাদের ফুসফুসের ব্রঙ্ক অ্যালভিয়োলিতে চলে যায়। ব্রঙ্ক অ্যালভিয়োলিতে যাওয়া দ্বিতীয় স্টেজ। তৃতীয় বা শেষ স্টেজ হচ্ছে ব্রঙ্ক অ্যালভিয়োলিতে পানি জমানো। ড. বিজন শীলের পরামর্শ হলো, করোনাকে প্রথম স্টেজেই অর্থাৎ গলা খুশ খুশ অবস্থাতে দমন করতে হবে। আর সেজন্য তিনি মনে করেন তার ওই আদা, লবঙ্গ এবং চা থেরাপি আর নিমপাতা থেরাপি অনেক কার্যকর হবে
এর পাশাপাশি তিনি ইমিউনিটি বাড়ানোর জন্য প্রতিদিন একগ্রাম পরিমাণ ভিটামিন সি খাওয়ার পরামর্শ দেন। এই ভিটামিন সি’র সঙ্গে অবশ্যই কিছুটা পরিমাণ জিঙ্ক থাকতে হবে। বাজারে এ মুহূর্তে ভিটামিন সি ওইভাবে পাওয়া যাচ্ছে না। কারণ, প্রধানমন্ত্রীও তার ৩২টি সাবধানতার ভেতর এই ভিটামিন সি খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এ কারণে বাজারে যা ভিটামিন সি ছিল, তার প্রায় সবই এখন বিক্রি হয়ে গেছে। তাই আপনারা ভিটামিন সি ও জিংক সমৃদ্ধ ফলমূল ও শাক-সবজি খেতে পারেন।
ড. বিজন শীল যে সব থেরাপির পরামর্শ দিচ্ছেন, তা সবই ভেষজ পদ্ধতির। এছাড়া তিনি দুই প্রকারের ভিটামিন খেতে বলছেন। এতে শরীরে ক্ষতি হওয়ার কোনও কারণ নেই। তাই এ বিষয়ে যেহেতু তিনি বিশেষজ্ঞ, তার পরামর্শ আমাদের এখন থেকেই মানা উচিত। ইউরোপ আমেরিকার চিকিৎসা ব্যবস্থা যেখানে পরাজিত হয়েছে, সেখানে আমাদের হাসপাতাল বা চিকিৎসা ব্যবস্থা দিয়ে মোকাবিলা করার সুযোগ নেই। বরং এসব পূর্ব সাবধানতার মাধ্যমে আগেই নিজেকে রক্ষার পথে আমাদের চলা উচিত।

জাফরান



জাফরান পৃথিবীর অন্যতম দামী মসলা, ইহা ‘রেড গোল্ড’ নামেও পরিচিত। প্রাচীন যুগে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে জাফরানের সুগন্ধ ও উজ্জ্বল রঙের গুরুত্ব অনুধাবন করে এ জাফরান ব্যবহার সম্ভ্রান্ত পরিবারের মধ্যে ব্যাপক প্রচলন ছিল। এ ফসলের আদিস্থান গ্রীস। জাফরানের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাওয়ায় তা ধীরে ধীরে কান্দাহার, খোরাসান, কাশ্মীরের বনেদী মহলে ব্যবহারের প্রয়োজনে ভারত উপমহাদেশে এর বিস্তার ঘটে। ইউরোপিও ইউনিয়নভুক্ত অনেক দেশেই জাফরান চাষ প্রচলন আছে। আফগানিস্থান, ইরান, তুরস্ক, গ্রীস, মিশর, চীন এ সব দেশে কম বেশি জাফরানের চাষ হয়ে থাকে। স্পেন ও ভারতের কোন কোন অংশে বিশেষ করে কাশ্মীরে এ ফসলের চাষ অনেক বেশি। তবে অন্য দেশের তুলনায় স্পেনে জাফরান উৎপাদন পরিমাণ অত্যাধিক। রপ্তানীকারক অন্যতম দেশ হিসাবেও স্পেন সুপরিচিত। বিশ্বের মোট চাহিদার প্রায় শতকরা ৭০ ভাগ জাফরান স্পেন রপ্তানী করে থাকে।
যে সব দেশ স্পেন থেকে জাফরান আমদানী করে তাদের মধ্যে জার্মান, ইতালি, আমেরিকা, সুইজারল্যান্ড, ইউকে ও ফ্রান্স অন্যতম। ফুটন্ত ফুলের গর্ভদন্ড (স্টিগমা) সংগ্রহ করে তা থেকে জাফরান প্রাপ্তি একটা ব্যয় বহুল ও প্রচুর শ্রম নির্ভর (লেবার ইনটেনসিভ) কাজ। একই কারণে এ দামী মসলা চাষে অনেকেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। প্রথম বছর রোপিত সব গাছে ফুল আসেনা, এ সময় প্রায় শতকরা ৪০-৬০ ভাগ গাছে ফুল আসতে পারে। এক গ্রাম জাফরান পেতে saffronপ্রায় ১৫০টা ফুটন্ত ফুলের প্রয়োজন হয়। পরের বছর একেক গাছ থেকে প্রায় ২-৩টা করে ফুল দেয়। তবে তৃতীয় বছর থেকে প্রতি বছরে জাফরান গাছ ৫-৭ টা করে ফুল দিতে সক্ষম।
জাফরানের ইংরেজি নাম ‘সাফরন’, ক্রোকোআইডি (Crocoideae)পরিবার ভুক্ত। এর বৈজ্ঞানিক নাম : Crocus sativus| । এ গাছ লম্বায় প্রায় ৩০ সে.মিটার হয়। প্রতি ফুলে ৩টা স্ত্রী অঙ্গ (Stigma) থাকে, তবে তাতে পুরুষ অঙ্গ (Anther) থাকে মাত্র ৩টা। খাবার সু-স্বাদু করার জন্য বিশেষ করে বিরিয়ানী, কাচ্চী, জর্দা ও কালিয়াসহ নানা পদের দামী খাবার তৈরীতে জাফরান ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও বিয়ের অনুষ্ঠানে জর্দা তৈরীতে প্রাকৃতিক আকর্ষণীয় রং আনতে এবং দামী বাহারী পান বিপণনে জাফরান অন্যতম উপাদান। মুখমন্ডল আকর্ষণীয় করতে ও ত্বকের উজ্জ্বল রং আনার জন্য স্বচ্ছল সচেতন রমণীরা প্রাচীন কাল থেকে জাফরান ব্যবহার করে থাকে। বিউটি পার্লারে রূপচর্চায় জাফরান অন্যতম উপাদান হিসাবে ব্যবহার করা হয়।
বংশ বিস্তার: গাছের মোথা বা বালব (অনেকটা পেঁয়াজের মত) সংগ্রহ করে তা বংশ বিস্তারের কাজে ব্যবহার করা হয়। এক বছর বয়স্ক গাছ থেকে রোপন উপযোগী মাত্র দু’টা মোথা (ইঁষন) পাওয়া যায়। তবে ৩-৪ বছর পর একেক গাছ থেকে ৫-৭টা মোথা পাওয়া যেতে পারে। নূতন জমিতে রোপন করতে হলে ৩-৪ বছর বয়স্ক গাছ থেকে মোথা সংগ্রহ করে তা জমিতে রোপন করতে হবে। একই জমিতে ৩-৪ বছরের বেশি ফসল রাখা ঠিক নয়। মোথা বা বালব উঠিয়ে নূতন ভাবে চাষ ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।
জমি নির্বাচন: প্রায় সব ধরনের জমিতে জাফরান ফলানো যায়। তবে বেলে-দোঁআশ মাটি এ ফসল চাষে বেশি উপযোগী। এঁটেল মাটিতে জাফরানের বাড় বাড়ন্ত ভাল হয় না, তবে এ ধরনের মাটিতে কিছু পরিমান বালু ও বেশি পরিমাণ জৈব সার মিশিয়ে এ মাটিকে উপযোগী করা যায়। জলাবদ্ধ সহনশীলতা এ ফসলের একেবারেই নেই। এ জন্য পানি নিষ্কাশন সুবিধাযুক্ত উঁচু বা মাঝারী উঁচু জমি এ ফসল চাষের জন্য নির্বাচনে প্রাধান্য দেয়া প্রয়োজন। মাটির পি এইচ ৬-৮ হলে বেশি ভাল হয়। ছায়া বা আধা ছায়ায় এ ফসল ভাল হয় না। পর্যাপ্ত রোদ ও আলো-বাতাস প্রাপ্তি সুবিধা আছে এমন স্থানে এ ফসল আবাদ ব্যবস্থা নিতে হবে।
পরিবারিক প্রয়োজন মেটাতে সাধারণত বাগানের বর্ডার এলাকাতে এ ফসল চাষ প্রচলন আছে। অনেকে ছাদে, পটে বা ছোট ‘বেড’ তৈরী করে নিয়েও সেখানে সীমিত আকারে জাফরান চাষ করে পরিবারের চাহিদা পূরণ করে থাকে। অনেকে এক মিটার চওড়া ও তিন মিটার লম্বা এবং ১৫ সে.মিটার উঁচু বীজতলা তৈরী করে নিয়ে তাতে জাফরান চাষ করে থাকে। এ ব্যবস্থায় পরিচর্যা গ্রহন ও ফুল থেকে স্টিগমা (গর্ভদন্ড) সংগ্রহ করা সুবিধা হয়। বাণিজ্যিকভাবে চাষের ক্ষেত্রে বীজতলার আকার লম্বায় ৮-১০ মিটার করা হয়।
চাষ পদ্ধতি: তৈরী বীজ তলা সরেজমিন হতে প্রায় ১৫ সে.মিটার উঁচু হবে। প্রতিটা জাফরানের বালব বা মোথা ১০-১২ সে.মিটার দূরত্বে ছোট গর্ত তৈরী করে তা ১২-১৫ সে.মিটার গভীরতায় রোপন করতে হবে। তাতে এ মাপের বীজ তলার জন্য প্রায় ১৫০টা জাফরানের মোথার প্রয়োজন হয়। বর্ষা শেষ হওয়ার পূর্বক্ষণে জুলাই- আগষ্ট মাসে এ ফসলের মোথা বা বালব (ইঁষন) রোপন করা হয়। শুরুতে বেশি গভীর ভাবে জমি চাষ করে বা কোদাল দিয়ে কুপিয়ে জমি আগাছা মুক্ত ও লেবেল করে নেয়া প্রয়োজন। জমি তৈরী কালে প্রতি শতক জমিতে পঁচা গোবর/আবর্জনা পঁচা সার ৩০০ কেজি, টিএসপি ৩ কেজি এবং এমওপি ৪ কেজি প্রয়োগ করে ভালোভাবে মাটির সাথে সমস্ত সার মিশিয়ে হালকা সেচ দিয়ে রেখে দিয়ে দু’সপ্তাহ পর জাফরান বালব রোপন উপযোগী হবে। বসতবাড়ি এলাকায় এ ফসল চাষের জন্য বেশি উপযোগী।
এ ফসল একবার রোপন করা হলে ৩-৪ বছর পর্যন্ত ফুল দেয়া অব্যাহত থাকে। বর্ষার শেষে আগষ্ট মাসে মাটি থেকে গাছ গজিয়ে ফেব্রুয়ারী মাস পর্যন্ত গাছের বৃদ্ধি ও ফুল দেয়া অব্যাহত থাকে। মে মাসের মধ্যে গাছের উপরিভাগ হলুদ হয়ে মরে যায়। মোথা মাটির নিচে তাজা অবস্থায় বর্ষাকাল পর্যন্ত বেঁচে থাকে। এ সময় গাছের অবস্থিতি উপরি ভাগ থেকে দেখা যায়না।
গাছের বৃদ্ধি ও ফুল: গাছে শীতের প্রারম্ভে অর্থাৎ অক্টোবর-নভেম্বর মাসে ফুল আসে। বড় আকারের মোথা লাগানো হলে সে বছরই কিছু গাছে ফুল ফুটতে পারে। শীতকালে গাছের বাড় বাড়ন্ত ভাল হয়। শীত শেষে এ বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায়। গাছের বয়স এক বছর হলে অতিরিক্ত ১টা বা ২টা মোথা (ঈড়ৎসং) পাওয়া যায়। তিন বছর পর রোপিত গাছ থেকে প্রায় ৫টা অতিরিক্ত মোথা পাওয়া যাবে, যা আলাদা করে নিয়ে নূতন ভাবে চাষের জন্য ব্যবহার উপযোগী হবে।
পরিচর্যা: এ ফসল আবাদ করতে হলে সব সময় জমি আগাছা মুক্ত রাখতে হবে। মাঝে মাঝে নিড়ানী দিয়ে হালকা ভাবে মাটি আলগা করে দেয়া হলে মাটিতে বাতাস চলাচলের সুবিধা হবে এবং গাছ ভালোভাবে বাড়বে। শুকনো মৌসুমে হালকা সেচ দেয়া যাবে। তবে অন্য ফসলের তুলনায় সেচের প্রয়োজনীয়তা অনেক কম। বর্ষায় পানি যেন কোন মতে জমিতে না জমে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। পানি জমে থাকলে রোপিত বালব পঁচে যাবে।
আপদ ও রোগ বালাই: এক প্রকারের ইঁদুর, চিকা ও খরগোস জাফরানের পাতা, ফুল এমনকি গাছের মোথা খেতে পছন্দ করে, মোথা যত খায় নষ্ট করে তার দ্বিগুণ। এ জন্য এ ধরনের উপদ্রব দেখা গেলে প্রয়োজনীয় ফাঁদ ব্যবহার করে অথবা মারার জন্য ঔষুধ ব্যবহার করে তা দমন ব্যবস্থা নিতে হবে।
গাছ ঢলে পড়া রোগ: এক ধরনের মাটিতে বসবাসকারী ছত্রাকের (পিথিয়াম, রাইজোক টোনিয়া) আক্রমণে গাছের গোড়া নরম হয়ে গাছ বাদামী রং ধারন করে গাছ হেলে পড়ে। প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে লগন/রিডোমিল-গোল্ড অথবা কার্বোন্ডাজিম দলীয় ছত্রাক নাশক (জাষ্টিন/ব্যাভিস্টিন) স্প্রে করে সুফল পাওয়া যাবে।
শিকড় পচা রোগ: এটা জাফরানের খুব ক্ষতিকর রোগ। এ রোগের আক্রমণে শিকড় পঁচে গাছ মারা যায়। এ রোগ যথেষ্ট ছোঁয়াচে, এ জন্য বিশেষ সর্তকতা অবলম্বন করা দরকার এবং আক্রান্ত জমিতে দু-এক বছর জাফরান চাষ করা যাবে না। একই বাগানে ৩-৪ বছর ধরে জাফরান আবাদ অব্যাহত রাখা হলে এ রোগের উপদ্রব বাড়ে। এ জন্য তিন বছর ফসল নেয়ার পর চতুর্থ বছর মোথা উঠিয়ে নিয়ে নূতন ভাবে অন্য জমিতে এ ফসল চাষ ব্যবস্থা নিতে হবে। পরবর্তী ২ বছর এ রোগাক্রান্ত জমিতে আর জাফরান চাষ করা উচিত হবে না।
জাফরান সংগ্রহ: রোপনের প্রথম বছর সাধারণত ফুল আসে না। তবে জাফরানের রোপিত বালব আকারে বেশ বড় হলে সে বছরই জাফরান গাছ থেকে মাত্র একটা ফুল ফুটতে পারে। পরের বছর প্রতি গাছে পর্যায়ক্রমে ২-৩ টা ফুল আসবে। দু’বছরের গাছে ৪-৫টা এবং তিন বছরের গাছে ৭-৮টা ফুল দিবে। জাফরানের স্ত্রী অঙ্গ ৩টা থাকে এবং পুরুষ অঙ্গ ও ৩’টা থাকে। গাছে অক্টোবর মাস থেকে ফুল দেয়া আরম্ভ করে এবং নভেম্বর মাস পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকে। তবে এ ফুল ফোটা মৌসুমী তাপমাত্রার উপর অনেকটা নির্ভর করে। ফুটন্ত ফুলের গন্ধের মাত্রা কিছুটা তীব্র। ফুল ফোটার সঙ্গে সঙ্গে গর্ভদন্ড (ঝঃরমসধ) গাছ থেকে ছেঁটে সংগ্রহ করা প্রয়োজন। এ দন্ডের অগ্রভাগের অংশ তুলনায় চওড়া বেশি বা মোটা হয়। এ অংশের রং গাঢ় লালচে হয়। নীচের অংশ অনেকটা সুতার মত চিকন এবং হালকা হলুদ রঙের হয়। উপরের অংশ জাফরান হিসাবে ব্যবহৃত হয়, নিচের চিকন অংশের গুণাগুণ তেমন ভালো হয় না।
সংরক্ষণের আগে বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে যেন তা ভালোভাবে শুকানো হয়। অন্যথায় জাফরান বেশি দিন রাখা যাবে না, প্রকৃতিক গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যেতে পারে।ফুল ফোটার সঙ্গে সঙ্গে ফুলের স্টিগমার বা গর্ভদন্ডের প্রয়োজনীয় অংশ কেঁচি দিয়ে বা অন্য ভাবে ছেঁটে নিয়ে তা চওড়া একটা পাত্রে পরিষ্কার কাগজ বিছিয়ে নিয়ে তার উপর সংগৃহীত জাফরান রোদে শুকানোর ব্যবস্থা নেয়া হয়। এ সময় রোদে দেয়ার জন্য জাফরান সংরক্ষিত পাত্রটা কিছু উঁচু স্থানে টেবিল/টুলে রাখতে হবে এবং কোন মতেই যেন বাতাস বা অন্য কোন প্রাণীর উপদ্রবে পড়ে না যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। জাফরান শুকানোর জন্য এক ধরনের যন্ত্র (ডেসিকেটর বা ড্রায়ার) ব্যবহার করা হয়।
জাফরান সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কাজ অতি ধৈর্য্যরে সাথে করতে হয় যা অনেকটা চা সংগ্রহের মত। ফসল সংগ্রহ, পরবর্তীতে প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ ও বিপণন এ কাজগুলো উৎপাদনকারী সব দেশেই মহিলারা করে থাকে। এ দেশেও এ গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সম্পাদনের জন্য আগ্রহী মহিলাদের সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ দেয়া অতি জরুরী হবে। দু-তিন দিন পড়ন্ত রোদে শুকানোর পর তা আর্দ্রতা রোধক পাত্রে সংরক্ষণ করতে হবে। কড়া রোদে বা বৃষ্টিতে ভেজার আশঙ্কা থাকলে বাড়ীর বারান্দায় বা জানালার ধারে সুরিক্ষত স্থানে এ মূল্যবান জাফরান শুকানোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
সাবধানতা: জাফরান অত্যান্ত দামী ফসল। এ জন্য অসাধু ব্যবসায়ীরা এতে ভেজাল দিয়ে ক্রেতা সাধারণকে প্রতারিত করার অহরহ দৃষ্টান্ত আছে। ক্রেতাকে অবশ্যই জাফরান ক্রয় কালে এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে। সব চেয়ে ভাল হয় বাড়ির ছাদে বা সবজী বাগানে কিছু সংখ্যক গাছ লাগিয়ে নিজেই উৎপাদন করা বা উৎপাদনে অন্য কাউকে উৎসাহিত করে সেখান হতে নিজ প্রয়োজন মেটানো।
জাফরান চাষে করণীয়: প্রত্যেক হর্টিকালচার সেন্টারে সুবিধামত স্থানে ২-৩টা স্থায়ী বীজ তলায় এ দামী গুরুত্বপূর্ণ হাইভ্যালু ফসলের আবাদ ব্যবস্থা নেয়া অত্যাবশ্যক। পার্শ্ববর্তী যে কোন দেশ থেকে দু-একশত জাফরান বালব সংগ্রহ করে চাষের উদ্যোগ নেয়া জরুরী। জাফরান বালব সংগ্রহের ক্ষেত্রে বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্প প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে তা প্রত্যেক হর্টিকালচার সেন্টারে বিশেষ করে নূরবাগ জার্মপ্লাজম হর্টিকালচার সেন্টারে চাষ ব্যবস্থা নিয়ে মাতৃ বাগানের উৎস সৃষ্টি করতে পারে।
লেখকঃ সাবেক মহাপরিচালক,কৃষি সম্প্রসাররণ অধিদপ্তর।
তথ্যসুত্র: কৃষিবার্তা ডটকম।

কিমের ট্রেনে থাকেন কুমারী সব দে’হরক্ষী!

কিমের ট্রেনে থাকেন কুমারী সব দেহরক্ষী




উত্তর কোরিয়ার সর্বো’চ্চ নেতা কিম জং উনকে নিয়ে গু’জবের শেষ নাই। এবার যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি সংবাদমাধ্যম কিমকে নিয়ে একটি প্র’তিবেদন প্র’কাশ করেছে। যেখানে উঠে এসেছে কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য। ডেইলি স্টারের প্র’তিবেদনে বলা হয়েছে, কিমের ব্য'ক্তিগত ট্রেনটিতে রয়েছে ২০টি বগি। আর প্রত্যেকটি বগিই রাজকীয়ভাবে সাজানো। তবে ওই ট্রেনটিতে সবচেয়ে দামী সম্পদ হচ্ছে কিমের কুমা’রী রক্ষিতারা।

জা’না গেছে, ২০১৫ সালে একটি প্রতিযোগিতার মাধ্যমে রক্ষিতাদের বাছাই করেন কিম। কিপ্পুমজো নামের ওই কুমা’রী রক্ষিতাদের দলে আছেন প্রায় দুই হাজার নারী। ডেইলি স্টারের প্র’তিবেদনে বলা হয়, কিম জং উনের বাবা কিম জং ইলেরও রক্ষিতা ছিলো। পরে ২০১১ সালের কিমের বড় ভাইয়ের মৃ'ত্যুর পর সেটি ব'ন্ধ করে দেন কিম জং ইল। উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন মা’র্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স’ঙ্গে সাক্ষাতের জন্য এই ব্য'ক্তিগত ট্রেন দিয়েই ভিয়েতনাম, চীন ভ্রমণ ক’রেছেন। নি’রাপত্তার কথা ভেবেই তিনি প্লেনে না চড়ে ট্রেন ব্যবহার করেন বলে জা’না গেছে।

আমাদের বিজ্ঞানী বিজন কুমার শীল

আমাদের বিজ্ঞানী


আমরা অক্সফোর্ডের অধ্যাপক সারা গিলবার্টকে চিনি কিন্তু ঘরের কীর্তিমান #বিজন_কুমার_শীলকে চিনি না। অথচ সারা গিলবার্টের ট্রায়ালে থাকা ভ্যাকসিনের চেয়ে তাঁর উদ্ভাবিত করোনা শনাক্তকরণ কিট এ মুহূর্তে মানব জাতির জন্য কোন অংশে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। অথচ গবেষক সারা ভাইরাল হলেও আপন নামের মতোই আড়ালে থেকে যান বিজ্ঞানী বিজন। উন্নত বিশ্বে জন্ম নিলে সারার মতো তাকে নিয়েই এ মুহূর্তে কম হইচই হতো না।

#জন্মেছিলেন_কৃষক_পরিবারে

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়ায় ১৯৬১ সালে জন্ম বিজন কুমার শীলের। অকপটেই স্বীকার করেন ‘আমি কৃষক পরিবারের ছেলে। আমার বাবা ছিলেন কৃষক। বাবার সঙ্গে মাঠেও কাজ করেছি দীর্ঘদিন।’ বাবা রসিক চন্দ্র শীল ও মা কিরণময়ী শীলের ২ ছেলে ও ৪ মেয়ের মধ্যে পঞ্চম বিজন।
বনপাড়ার সেন্ট যোসেফ হাইস্কুল, পাবনার সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ হয়ে ভর্তি হন ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে স্নাতক হন ভেটেরিনারি সায়েন্স বিষয়ে। ফলাফল ছিল প্রথম শ্রেণিতে প্রথম। একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন অণুজীববিজ্ঞানে।

কমনওয়েলথ বৃত্তি নিয়ে যুক্তরাজ্যে যান। সেখানে দ্য ইউনিভার্সিটি অব সারে থেকে ১৯৯২ সালে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো নিয়ে (ডেভেলপমেন্ট অব মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডিজ)। সেই থেকে বিজন কুমার শীলের অণুজীববিজ্ঞান বিশেষ করে ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকানোর গবেষণা আর থেমে থাকেনি।

অণুজীববিজ্ঞান নিয়ে ১৪টি উদ্ভাবনের পেটেন্ট রয়েছে বিজন কুমার শীলের নামে।

পৃথিবীর শীর্ষস্থানীয় জার্নালগুলোতে ২০টির বেশি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে, ২০টির বেশি আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেছেন।

বিজন কুমার শীলের স্ত্রী অপর্ণা রায় একজন প্রাণী চিকিৎসক। তাঁদের এক ছেলে ও এক মেয়ে।

#কর্মজীবন
ড. বিজন কুমার শীল সিংগাপুর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছুকাল শিক্ষকতা করেন। এরপর ঐ চাকরি ছেড়ে জয়েন করেন এমপি নামক একটা বায়োলজিকস আমেরিকান কোম্পানিতে, ওটার মালিক ছিলেন যুগোস্লাভিয়ার একজন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি। এরপর নিজেই বায়োলজিক্যাল রিয়েজেন্ট তৈরি ও ব্যবসা শুরু করেন।
সম্প্রতি তিনি গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে যোগ দেন মাইক্রোবায়োলজি ডিপার্টমেন্টের প্রধান হিসেবে। সেখানে তিনি শিক্ষকতার পাশাপাশি মনোযোগ দেন গবেষনায়।

#করোনাভাইরাস সনাক্তকরণের_পদ্ধতি আবিষ্কার

২০০৩ সালে যখন সার্স ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দিয়েছিল তখন বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ড. বিজন কুমার শীল সিঙ্গাপুর গবেষণাগারে কয়েকজন সহকারীকে নিয়ে সার্স ভাইরাস দ্রুত নির্ণয়ের পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। ড. বিজন কুমার শীলের নেতৃত্বে ড. নিহাদ আদনান, ড. মোহাম্মদ রাঈদ জমিরউদ্দিন ও ড. ফিরোজ আহমেদ এই পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন।
♦ মনে রাখুন,‘র‌্যাপিড ডট ব্লট’ পদ্ধতিটি ড. বিজন কুমার শীলের নামে পেটেন্ট করা। পরে এটি চীন সরকার কিনে নেয় এবং সফলভাবে সার্স মোকাবেলা করে।
উল্লেখ্য, তার আগে ১৯৯৯ সালে ছাগলের মড়ক ঠেকানোর জন্য পিপিআর ভ্যাকসিন আবিষ্কার করেছিলেন তিনি।

সিঙ্গাপুরেই গবেষণা করছিলেন ডেঙ্গুর ওপরে। গবেষণা চলাকালে তিনি দুই বছর আগে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে যোগ দেন। সম্প্রতি ফের বিশ্ব যখন করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে বিপর্যস্ত তখন এ অনুজীববিজ্ঞানী মনযোগ দেন করোনা শনাক্তকরণ কিট উদ্ভাবনে এবং খুব তাড়াতাড়ি সফলতার মুখ দেখেন।
গণস্বাস্থ্য র‌্যাপিড ডট ব্লট (জি র‌্যাপিড ডট ব্লট) নামের এই কিট তৈরির দলে আরও যে কজন অণুজীববিজ্ঞানী রয়েছেন তাঁরা হলেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. ফিরোজ আহমেদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নিহাদ আদনান, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রাশেদ জমিরউদ্দিন এবং আইসিডিডিআরবির বিজ্ঞানী ড. আহসানুল হক।

তাঁদের এই গবেষণাকাজ সমন্বয় করেন গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ডা. মহিবুল্লা খন্দকার। সার্বিক তত্ত্বাবধানে আরও ছিলেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা বীর মুক্তিযোদ্ধা
ডা.জাফরুল্লাহ। বিদেশ থেকে আমদানি করলে এ কিটের দাম পড়ত ৪-৫ হাজার টাকা মত। সেখানে তাদের উদ্ভাবিত কিটের দাম পড়বে মাত্র তিন থেকে চারশ টাকার মধ্যে।

অধ্যাপক ও বিজ্ঞানী বিজন কুমার শীল আমাদের আনসাং হিরো। আমাদের বীর। আমাদের গর্বের ধন। তাকে অশেষ শ্রদ্ধা জানাই। শ্রদ্ধা জানাই তাঁর সহযোদ্ধাদের।
Collected

তথ্যসূত্র ও ছবি :
১। https://bn.m.wikipedia.org › wiki
বিজন কুমার শীল - উইকিপিডিয়া
২। প্রথম আলোর পল্লব মোহাইমেন-এর একটি বিশেষ প্রতিবেদন।

বাস্তব জগতের একজন রিয়েল হিরো

বাস্তব জগতের একজন রিয়েল হিরো


নিয়তির কি নির্মম পরিহাস! যে পরিবহন শ্রমিকেরা ইলিয়াস কাঞ্চনের দুই গালে জুতা মারো তালে তালে স্লোগান দিয়ে ইলিয়াস কাঞ্চনের কুশপুত্তলিকায় আগুন দিয়েছিল।

কালের কন্ঠ পেইজে দেখলাম সেই সব শ্রমিকরা আজ না খেয়ে কাঁদে...
তাদের আজ খবর নেয় না শ্রমিক নেতারা,পরিবহন
মালিকেরা।
অথচ আজ সেই শ্রমিকদের ত্রান সহায়তা দিচ্ছে #নিরাপদ_সড়ক_চাই, ইলিয়াস কাঞ্চন।

সিনেমায় নয় বাস্তবের এই হিরো কে শ্রদ্ধা জানাই।😍
(Collected)

২০২০ এপ্রিল মাসে গার্মেন্টস শ্রমিকরা পাবে বেতনের ৬০%

২০২০ এপ্রিল মাসে গার্মেন্টস শ্রমিকরা পাবে বেতনের ৬০% 



বেশিরভাগ পোশাক শ্রমিকের মোট বেতন ৮ থেকে ১০ হাজারের ভিতরে। প্রতিমাসে ওভারটাইমের টাকা পায় তিন থেকে চার হাজারের মত। এই টাকা দিয়েই তাদের মোটামুটি সংসার খরচ চলে। বেতনের টাকা তো ঘরভাড়া আর দোকান বাকীর টাকা দিতেই শেষ। অথচ এপ্রিল মাসে কোন ওভারটাইমের টাকা নাই। তার উপরে তাদের উপরে ধেয়ে আসছে ৬০% বেতন নামের অভিশাপ। তার উপরে রমজান মাস চলছে। এমনিতেই অন্য সময়ের চেয়ে খরচ বেশি। তার উপরে সব জিনিসের দামই দেড় থেকে দুইগুণ বেশি। নরমাল সময়ের ৫ টাকার একটা মাস্ক এখন ত্রিশ টাকায় কিনতে হয়। ধরা যাক, একজন শ্রমিকের মোট বেতন দশ হাজার। ৬০% হিসাবে এপ্রিলের বেতন পাবে ৬ হাজার। এই টাকা দিয়ে সে বাড়ী ভাড়াই দিবে নাকি দোকান বাকী শোধ করবে? আর দোকান বাকী শোধ না করলে দোকানদারও তো চলতি ঈদের মাসে বাকিতে কিছু দিবে না। তাহলে এই নিরিহ মানুষগুলা যদি পেটের তাগিদে হিংস্র হয়ে ওঠে, যদি আরেকটা শ্রমিক বিক্ষোভ হয়, এর দায়ভার কি রিডিং পড়তে না পারা সেই প্রতিমন্ত্রী নিবে? নাকি বিজিএমইএ / বিকেএমইএ নিবে? নাকি মালিকরা নিবে? নাকি শ্রমিকেরা না খেয়েই মরবে?
 

Total Pageviews

 
Blogger Templates